কিংবদন্তি তারকা হানিফ সংকেত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে উপস্থাপক হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই গুণীজন শুধু একজন সফল নাট্যকার ও পরিচালকই নন, বরং তিনি একজন দক্ষ অভিনেতাও—যা অনেকেরই অজানা।
এ প্রজন্মের অনেকেই জানেন না, আশির দশকে ঢালিউডের বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন হানিফ সংকেত। অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন খলনায়ক চরিত্র দিয়ে, যা সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তার মুখে উচ্চারিত সংলাপগুলো ছিল মানুষের মুখে মুখে।
১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। সিনেমাটিতে তিনি ‘ঘোটন ঘোষ’ নামের খলচরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি ছিলেন নায়ক বাপ্পারাজের গ্রাম্য শত্রু। দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকমনে শক্ত ছাপ ফেলেন তিনি।
এরপর ১৯৮৮ সালের ১৯ মে মুক্তি পায় ‘ঢাকা-৮৬’। এই সিনেমায় বাপ্পারাজের বন্ধু ও সহপাঠীর ভূমিকায় দেখা যায় হানিফ সংকেতকে। সিনেমার “পাগল হতে আর দেরি নাই” গানটিতে তার উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
একই বছর ২ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘আগমন’ সিনেমাতেও তিনি অভিনয় করেন খলনায়ক চরিত্রে। হ্যাংলা গড়নের হানিফ সংকেত এই সিনেমায় এমন কিছু সংলাপ উপহার দেন, যা আজও স্মরণীয়— “ঘটনা যেন প্যাঁচ না খায়”, কিংবা “এখন ঘটনাটা কেমন প্যাঁচ খায়, তাই দেখে যা”।
বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হানিফ সংকেতের অভিনয় জীবনের এই অধ্যায় হয়তো অনেকের কাছে অজানা, কিন্তু বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তা নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
